জাতীয় কবির জন্মদিন

| বৃহস্পতিবার, মে ২৫, ২০১৭, ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
কাজী নজরুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি ● জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতুর মতো বাংলায় আবির্ভূত হয়েছিলেন সাম্য ও মানবতার আবাহন নিয়ে— ‘গাহি সাম্যের গান / মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।’
 
অগ্নিবীণা বাজিয়ে বিদ্রোহের মশাল জ্বালানো সেই কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মজয়ন্তী আজ বৃহস্পতিবার। শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বাংলা ও বাঙালির রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবর্তনের ধারায়ও সুস্পষ্ট প্রভাব বিস্তার করেন এই চিরবিদ্রোহী কবি।
 
ব্রিটিশবিরোধী ভারতীয় মুক্তি আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে এখনও সবাইকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন তিনি।
 
১৮৯৯ সালের এই দিন ১১ জ্যৈষ্ঠে (২৫ মে) কাজী নজরুল ইসলাম বর্ধমান জেলার জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠেন তিনি। আর সেই পথপরিক্রমায় তিনি হয়ে ওঠেন অসাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী।
 
প্রেম, মুক্তি ও বিদ্রোহ কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের মূল উপজীব্য। সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করলেও তার পরিচিতি মূলত কবি হিসেবে। ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কবিতা-সংকলন ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয়, যা বাংলা কবিতায় এক নতুন ধারার সৃষ্টি করে। তার রচিত ‘চল, চল, চল’ বাংলাদেশের রণসঙ্গীত।
 
প্রায় তিন হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন তিনি। বাংলা সঙ্গীতের পাঠ নিতে গেলে নজরুল সঙ্গীত অপরিহার্য। ইসলামী সঙ্গীত বা গজল রচনা করে তিনি নতুন এক ধারার সূচনা করেন এবং বাঙালি মুসলমানকে বিদ্রোহ ও পরিবর্তনের পথে উদ্দীপিত করেন। একই সঙ্গে সমানতালে রচনা করেন শ্যামাসঙ্গীত।
 
মধ্যবয়সে তিনি পিকস ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এক সময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
 
১৯৭২ সালের ২৪ মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন।
 
১৯৭৬ সালে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। একই বছরের ২৯ আগস্ট মারা যান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
 
নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
 
এ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। সরকারি-বেসরকারি চ্যানেল ও রেডিওস্টেশনগুলো প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
 
 
 
Bangalnama/বাঙালনামা/এসএম/এমএম
Please follow and like us:
0