মুঠোবন্দি

| মঙ্গলবার, মার্চ ২১, ২০১৭, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

তিয়াশা সুরভী ● 

দাঁড়ান দাঁড়ান।করছেন কি? নামবেন না।
এই জল,এই পুকুরের কথা অন্য কারো সাথে থাকেনা।এখানে আমি ছাড়া কেউতো আসেনা।আপনি কেন এসেছেন?
-ইয়ে,মানে
-চুপ চুপ।শুনতে পাচ্ছেন!জল কিছু বলছে।জনাব, এতো কথা কেন বলছেন।আমি আপনার সাথে কথা বলে সময় নস্ট করতে আসিনি।সময় এখনো এতো টা সস্তা হয়ে যায় নি।
-জ্বি?
-এই যে উড়ে যাচ্ছে ফড়িং। আমি পুকুরপাড়ে এসে দাঁড়ালেই উড়তে থাকে। মেঘের সারি দেখছেন।না না।ওই মেঘ না।ওতো দূরের মেঘ কেন আমার হবে ? আমি ভিজবো কিভাবে ওই মেঘের বৃষ্টিতে।আমার মন খারাপের ভেলা ভাসিয়ে নেয়ার দায়িত্ব তো মেঘ নিয়েছে।
-শুনুন একটা কথা
-আপনি শুনুন আগে,আপনি এই রাস্তা ধরেও যাবেন না।এই রাস্তা শুধু আমাকেই পথ দেখায়।এখানে আসি।বসে থাকি। মাছদের সাথে কথা হয়।জানেন,ইলিশ আছে এই পুকুরে।
-পদ্মা পুকুর এটা?
-না না,পদ্মা পুকুর আবার কি?ওই যে পোকা দেখেছেন?
-পোকা?
-দেখছেন না।অন্য কেউ দেখেনা।অথচ সেও আমার।এই আকাশ,এই মেঘ,এই পুকুর,রাতের জলে ভেসে থাকা অন্ধকার,গোসল করতে আসা তারার মতো এটাও আমার।অথচ…..
-অথচ?
-নাহ, বুঝবেন না।দেখা যায় না।ধরা যায় না শব্দ।
আচ্ছা, আপনি চলে যান এখন।অনেক কথা বলেছেন।দেখছেন না ব্যস্ত।আমার বৃষ্টির মন খারাপ হচ্ছে,বিকেল গড়িয়ে রাত হচ্ছে,আর মন খারাপও বাড়ছে।অন্ধকার হয়ে গেলে জলের সুর পালটে যাবে।যান আপনি।
-আমি….
-বিকেলের মৃত্যু সহ্য করতে পারেন?আমি পারিনা।কখনো পারিনা।আজ ও পারবো না।কিন্তু বিকেল বাঁচতে চায় না।ওই যে শুনুন।ফিসফিস করে বলছে।
-আচ্ছা আসি আমি।
-এই রাস্তা ধরে না।অন্য রাস্তা ধরে যান।
-আসুন,পরিচিত হই?
-আমি ওদের ই একজন…..

 

পুকুরপাড়ে জ্বলতে থাকা শেষ মোমবাতিটা দপ করে নিভে যাবার পর…….
-কে,কে ওখানে?
-বিকেলের মৃত্যুতে পাশে থাকা হয় নি।পরিচিত হতে পারিনি।
-আবার এসেছেন আপনি?
-আপনার তারা রা কি নেমেছে পুকুরে,ভিজতে এসেছে ?জানতে এসেছিলাম।
-আসবে।আপনি যান।আর আসবেন না এখানে।কতো বার বলতে হয় এক কথা। এই সময় আমার,এই জলের গান….
-আমি উড়তে থাকা একটা তারা নিয়ে এসেছিলাম,হাতের মুঠোয় করে।মৃত্যু থেকে পালিয়ে রাতের জন্ম হতে দেখলাম,দেখলাম সহস্র তারার একসাথে জ্বলে উঠা।অবাক দাঁড়িয়ে ছিলাম। আর তখন ই অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য। একটা তারা উড়ে যাচ্ছে চোখের সামনে দিয়ে।জলখেলায় যাচ্ছিল হয়ত।পথ হারিয়েছে।মনে পড়লো পথটা আমার জানা আছে।আপনার পুকুরের পথ।নিয়ে এসেছি তাই।
-তারা?উড়তে থাকা তারা?চোখের সামনে ছিল?
-মুঠো বন্ধি তারা। না বলবো না চোখ বন্ধ করতে।শুধু জল থেকে উঠে এসে হাতটা বাড়ান।
-নাহহহহ,ছোঁয়া যাবেনা।
আপনি চলে যান।জল থেকে উঠবো না এখন।এখনো তারা রা আসেনি।জ্বলে জ্বলে সব মোমবাতি গুলো নিভে গিয়েছে।কিছু মেঘ ছিল,ওরাও সরে পড়েছে।আপনি যান। ওরা আসবে।
-আকাশে উড়িয়ে দিবো আবার,তারা?
-এক্সপেরিমেন্ট?আমার সাথে কেন জনাব?
-এক্সপেরিমেন্ট না
-তবে
-ছোঁপ ছোঁপ জীবন
-তারপর?
-তারপর, ইতিহাস।

কোন এক অদৃশ্য জন্মে মেঘ হয়ে জন্মাবো,বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বো পৃথিবীর বুকে।সেই তখন জল হবো, ইতিহাস হবো।

 

Bangalnama/বাঙালনামা/ডব্লিউকে
Please follow and like us:
0