নাগরিক জীবনের গল্প নিয়েই “সুলতান’স টি স্টল” : হাসান ইনাম

| বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৭, ১:০৫ অপরাহ্ণ

হাসান ইনাম। একজন তরুণ গল্পকার। তরুণদের মধ্যে পরিচিত নাম। অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭ তে প্রকাশ করেছেন দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ “সুলতান’স টি স্টল”। বইমেলায় আসার আগেই প্রথম মুদ্রণ শেষ। প্রকাশিত বই এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বইমেলায় কথা বললেন বাঙালনামা’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওয়ালী উল্লাহ খান এবং তুহিন খান।

বাঙালনামা প্রকাশিত বইয়ের প্রাথমিক তথ্য জানতে চাই।

হাসান ইনাম ● আমি ২০১৪ তে প্রথম বই করি। কিন্তু ওই বইটা আমার মনের মতো কোনো বই হয়নি। হঠাৎ করে হয়ে গিয়েছিলো। তো চিন্তা করেছিলাম ২০১৬ তে ১২ মাসে ১২টা গল্প লিখবো। ওই ১২টা গল্প নিয়েই এই বইটা। প্রচ্ছদ করেছেন কাজী যুবায়ের মাহমুদ। প্রকাশ করেছেন সুলায়মান সাদী। পাওয়া যাচ্ছে লিটল ম্যাগ চত্বরের ‘সময়ের জানালা’তে স্টল – উম্মুক্ত ১৩

বাঙালনামা আগের বইটার সাথে এই বইটার মৌলিক পার্থক্যটা কী?

হাসান ইনাম ● ওই বইটা আমার নিজ উদ্যোগে করেছিলাম। আর সকল পাঠকের কাছেও যায়নি। বন্ধু-বান্ধবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো। আর এইটার প্রথম মুদ্রণ মেলায় আসার আগেই শেষ (আলহামদুলিল্লাহ)। তো এইটা অনেক বড় একটা পাওয়া। বইটা শেষের ১০ দিন মেলায় থাকবে।

বাঙালনামা নামকরণটা কীভাবে করলেন?

হাসান ইনাম ● এর মধ্যে ১২টা গল্প আছে। এর মধ্যে একটা গল্পের নাম “সুলতান’স টি স্টল”। গল্পের নাম থেকেই নেওয়া।

বাঙালনামা প্রথম বই দুটো গল্পের কেনো? অন্য কিছু কেনো নয়?

হাসান ইনাম ● আমি আসলে গল্প লিখতেই বেশি ভালোবাসি। আর কবিতা ওই ভাবে আসে না বা আমি পারিনা বলবো। তো আমি ছোট গল্প নিয়েই কাজ করতে চাই।

বাঙালনামা গল্পগুলোর প্লটটা কেমন?

হাসান ইনাম ● টি স্টলের আড্ডা বা টি স্টল কেন্দ্রিক সভ্যতা। নাগরিক জীবনের অপর একটি নাম টি স্টল। আমার বইয়ের গল্পগুলো নাগরিক জীবনের গল্প। একটি মাত্র গল্প গ্রামীণ। ‘একটি এবং অনেকগুলো চড়ুই’ গল্পটা আমার অসম্ভব প্রিয় একটা গল্প। মুক্তিযুদ্ধের গল্প। সাধারণ মুক্তিযুদ্ধের গল্প থেকে একদম ব্যতিক্রম। মসজিদ, ইমাম, নামাজ এই শব্দগুলো আমরা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সাংঘর্ষিক মনে করি। এই সূত্র ধরেই বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর ধর্মীয় চেতনা দুই মেরুতে গিয়ে ঠেকেছে। আমি বা আমাদের পক্ষে এই মেরুকরণ দূর করা সম্ভব না। আমি এই গল্পে মোটাদাগে দুই মেরুকে একসাথে করার চেষ্টা করেছি। মোট বারোটা গল্প এই বইটাতে। গল্পগুলো একটু ভিন্ন ধাঁচে লেখার চেষ্টা করেছি। প্লট নির্বাচন নিয়ে অনেক কাজ করেছি। ‘অদ্ভুত দরোজা’ পড়লেই পাঠক সেটা বুঝতে পারবে। এই গল্পের প্লট নিয়ে আমি এক বছর কাজ করেছি। ভবিষ্যতে একটা উপন্যাস লেখার চিন্তাও আছে এই প্লটে।

বাঙালনামা আপনার বন্ধু মাসরুর-এর একটি বই এসেছে। তো বন্ধুদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কেমন?

হাসান ইনাম ● একটি মধুর প্রতিযোগিতা আছে। আমি চাই মাসরুর ভালো লিখুক। আবার মাসরুরও চাই আমি ভালো লিখি। বইমেলায় প্রকাশিত তাঁর বই এর গল্পগুলোও ভালো। আমি চাই তাঁর বই বেস্ট সেলার হোক।

বাঙালনামা মধুর হিংসাটা কার সাথে বেশি?

হাসান ইনাম ● আমার মধুর হিংসাটা বেশি হচ্ছে আমার সমসাময়িক একজন গল্পকার এর সাথে। তিনি হচ্ছেন সাব্বির জাদিদ।

বাঙালনামা সমসাময়িক অন্য যাদের বই এসেছে তাদের সম্পর্কে মূল্যায়ন কেমন?

হাসান ইনাম ● মেহেদী উল্লাহ’এর গল্প পড়া হয়। তানিম কবির, মোসাব্বির ভাইয়ের গল্প নিয়মিত পড়ি। সাইফ সিরাজ ভাই আর সাব্বির জাদিদ ভাই তো নিয়ম করেই আমাকে নির্দেশনা দেন। আমি মনে করি শক্তিমান এই গল্পকারদের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে।

বাঙালনামা লেখালেখির শুরুটা কীভাবে?

হাসান ইনাম ● আমার বাসা থেকে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা ছিলো। আমার বাসা থেকেই বই কেনার জন্য টাকা দেওয়া হতো। টাকা জমিয়ে কখনো বই কেনা লাগেনি। তো বই পড়তে পড়তেই লেখালেখির অনুপ্রেরণা।

বাঙালনামা বইমেলা কেমন লাগছে?

হাসান ইনাম ● বইমেলা ভালোই লাগছে। হালকা শীতের সাথে বইমেলাটা ভালোই লাগছে।

বাঙালনামা ধন্যবাদ।

হাসান ইনাম ● বাঙালনামা –কেও ধন্যবাদ।

 

Bangalnama/বাঙালনামা/ডব্লিউকে

 

Please follow and like us:
0