পাঠক পড়তে পড়তে নিজেই একটি চরিত্র হয়ে উঠবে : তিয়াশা সুরভী

| মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৭, ১:১০ অপরাহ্ণ

তিয়াশা সুরভী। একজন তরুণ উপন্যাসিক। অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭ তে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম উপন্যাস ‘খুব প্রেম অথবা মৃত্যু’। প্রকাশিত বই এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বইমেলায় কথা বললেন বাঙালনামা’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওয়ালী উল্লাহ খান এবং তুহিন খান।

বাঙালনামা প্রকাশিত বই সম্পর্কে জানতে চাই।

তিয়াশা সুরভী ● আমরা আজকাল যেটা দেখি। প্রেমের গল্প। খুব প্রেমের গল্প।এখনকার জেনারেশন যেটা করে যে, খুব প্রেম দেখায় প্রথম প্রথম কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাকে না। প্রেমটা আর থাকে না। সেটাই আসছে আমার বইয়ে। বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন শামীম আরেফীন। প্রকাশ করেছে ‘ঘাসফুল’। এর প্রকাশক মাহদী আনাম আমার বড় ভাই এর মতো।

বাঙালনামা ● প্রথম বই উপন্যাস কেনো? গল্প বা কবিতা কেনো নয়?

তিয়াশা সুরভী ● আমার গল্প লিখতে ভালো লাগে। আমি প্রচুর ছোট গল্প লিখি। এই থিম আমার নিজের কাছেই ভালো লেগেছে। তো পরে ভাবলাম এইটা বড় হতে পারে। তারপর উপন্যাস লিখলাম।

বাঙালনামা ● বই এর নামকরণ কীভাবে করলেন?

তিয়াশা সুরভী ●  লেখার সময় মাথায় আসছে। মেইন থিম এর সাথে যায় নামটা।

বাঙালনামা ●  আপনি তো কবিতাও লেখেন। কবিতার বই কেনো প্রকাশ করলেন না?

তিয়াশা সুরভী ● কবিতা লিখি। কিন্তু এখন যদি কবিতার বই বের করতাম তাহলে পাঠককে ঠকানো হতো। কবিতা লেখার ক্ষেত্রে আমার সীমাবদ্ধতা আছে। যখন মনে হবে ভালো কিছু হচ্ছে তখন করবো। মানুষ দেখেই বলবে- হ্যাঁ, ভালো লিখেছে। আর দুই লাইন লিখেই যদি ভাবি অনেক ভালো কিছু হয়েছে, লিখে ফেলেছি দুর্দান্ত কিছু একটা তাহলে তো ভুল হবে।

বাঙালনামা ● উপন্যাস এর প্লটটা কী?

তিয়াশা সুরভী ● ঐযে বললাম প্রেমের গল্প।

বাঙালনামা একটু বিস্তারিত জানতে চাই।

তিয়াশা সুরভী ●  (হাসি) নাহ বিস্তারিত বলা যাবেনা। বইটা পড়ে জানতে হবে।

বাঙালনামা ● গল্পের চরিত্র যখন ভাবেন তখন শুধু ফিকশন নিয়ে ভাবেন, না জীবনের থেকেও নেন?

তিয়াশা সুরভী ● নাহ শুধু ফিকশন থেকেই তো আসে না। আশেপাশের বিভিন্ন ঘটনা থেকে আসে। আমার নিজস্ব স্মৃতি থেকেও আসে। যেটা আমি একটু ঘুরিয়ে লিখি। আমাকেই নিয়ে লেখা বা অন্য কাউকে নিয়ে লেখা এমন না।

বাঙালনামা সমসাময়িক যারা লিখছেন তাদের সম্পর্কে মূল্যায়ন কেমন?

তিয়াশা সুরভী ● এখন আর পড়তে ভালো লাগে না। কারণ হচ্ছে ভালো গল্প খুঁজে পাই না। একটা বই আমি খুব আগ্রহ নিয়ে কিনলাম কিন্তু ভালো লাগলো না। তখন মন খারাপ হয়। সময়টা নস্ট হয়। যার প্রভাব নিজের লেখার উপর পরে। এর জন্য তেমন পড়া হয় না।

বাঙালনামা আপনার উপন্যাসটা পাঠক কেনো পড়বে?

তিয়াশা সুরভী ● সত্যি বলতে আমার বইটা পরিচিতরা বেশি কিনছে। তারা গল্পটা সম্পর্কে জানে। গল্পের প্লটটা সেই পুরাতন ‘প্রেম’ নিয়ে। তবে আবেদনটা নতুন, প্রকাশ ভঙ্গিটা নতুন। আর আমি জানি আমি কতোটা দিতে পারি, পেরেছি। না হলে তো কবিতার বই বের করতাম।

বাঙালনামা বইটি পড়লে কোথাও মনে হবে যে এটি আমার গল্প?

তিয়াশা সুরভী ● হ্যাঁ, পাঠক পড়তে পড়তে কোন এক সময় সে নিজেই একটি চরিত্র হয়ে উঠবে। সে ভাবতে থাকবে এটাই আমি।

বাঙালনামা ভাষার প্রয়োগটা কেমন?

তিয়াশা সুরভী ● আমরা যেভাবে কথা বলি এভাবেই লিখেছি। চলিত ভাষা আরকি।

বাঙালনামা  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

তিয়াশা সুরভী ● গল্প লিখছি। উপন্যাস লিখবো আবারও। আর কবিতার বই এখনই বের করবো না। কারণ কবিতা আমার সাধনার জায়গা।

বাঙালনামা আপনার বই এর ফ্লাপে দেখলাম এক লাইনের পরিচিতি। এতো সংক্ষেপ কেনো?

তিয়াশা সুরভী ● আমি মনে করি পাঠক আমাকে নয় আমার বইটা পড়তে চায়। এছাড়া ব্যক্তিজীবন নিয়ে এতো কিছু জানাতে চাই না।

বাঙালনামা ● বই নিয়ে আশাবাদ কেমন?

তিয়াশা সুরভী ● এখন পর্যন্ত ভালোই। আরো সময় আছে দেখা যাক।

বাঙালনামা ●  প্রথম উপন্যাস বের হলো। প্রথম অটোগ্রাফ দেওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

তিয়াশা সুরভী ● খুবই ভালো ছিলো। অপরিচিত একজন পাঠক ছিলো। এক্সাইটেড থাকার কারণে হাতের লেখা অনেক বাজে হয়েছে। পরিচিত হলে কি লিখেছি এইটা পড়ে শুনাতাম সেই পাঠককে।

বাঙালনামা ধন্যবাদ।

তিয়াশা সুরভী ● বাঙালনামা –কেও ধন্যবাদ।

 

Bangalnama/বাঙালনামা/ডব্লিউকে

Please follow and like us:
0