বইয়ের মধ্যে বিষবৃক্ষের কথাই বার বার এসেছে : ইকবাল মাহমুদ ইকু

| রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

ইকবাল মাহমুদ ইকু। তরুণ লেখক-পাঠকদের কাছে পরিচিত একটি নাম। অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭ তে প্রকাশ করেছেন দ্বিতীয় একক উপন্যাস ‘বিষবৃক্ষ’। বইমেলা-২০১৬ তে  প্রকাশিত রোমান্টিক উপন্যাস ‘নীলান্ত জোছনায়’ পাঠক সমাদৃত হয়েছিলো। এবার প্রকাশিত হয়েছে একেবারে ভিন্ন আবহের উপন্যাস ‘বিষবৃক্ষ’। প্রকাশিত বই এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বইমেলায় কথা বললেন বাঙালনামা’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওয়ালী উল্লাহ খান এবং তুহিন খান।

বাঙালনামাপ্রকাশিত বই এর প্রাথমিক তথ্য জানতে চাই ।

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● এই উপন্যাসটা প্রথমে ছোট গল্প হিসেবে লিখেছিলাম। কিছুদূর যাবার পর আমার ভালো লাগলো। তারপর বড় গল্প হিসেবে লেখার ট্রাই করলাম। এরপর ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম, সেখান থেকে খুব ভালো সাড়া পেলাম। আমার কিছু বন্ধু বললো ‘এটা তুই উপন্যাস হিসেবে ট্রাই কর’। ততদিনে আমার একটা উপন্যাস প্রায় লেখা শেষ হয়ে গিয়েছিলো। যেই বইটা এই বই মেলায় আসার কথা ছিলো। তখন এইটা একটু ভিন্নকিছু হচ্ছে। এই ভাবনা থেকেই এটা উপন্যাস হিসেবে লেখা।

বাঙালনামা নামকরণ টা কীভাবে করলেন?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● এই টোটাল বইয়ের মধ্যে বিষবৃক্ষের কথাই বার বার এসেছে। একটা ইন্টার পড়ুয়া ছেলের জীবন কাহিনী নিয়েই গল্পটা বলা হয়েছে। ছেলেটার একটা দুলাভাই থাকে যে হচ্ছে মূল ভিলেন। যাকে আসলে বিষবৃক্ষ বলা হয়েছে।

বাঙালনামা ভিলেনের নামে নামকরণ কেনো?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● আসলে পুরো বইতে এতো বেশি বিষবৃক্ষ আসছিল। আর বইটার মূল নাম ছিল ‘বিষবৃক্ষ ও একটি চড়ুইপাখির গল্প’। সাইকোলজিক্যাল কিছু ব্যাপার আছে আরকি। তো বড় নামের কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। প্রচ্ছদে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। প্রচ্ছদটা করেছে তিহি। তিহি আমার খুব কাছের একজন মানুষ। সে নিয়মিত কোন প্রচ্ছদশিল্পী না। তবে তার আঁকা খুবই ভালো লাগে আমার কাছে। তাই তাকে দিয়েই প্রতিবার প্রচ্ছদ করাই। তিহির করা প্রচ্ছদে নামলিপি’র জন্য খুব একটা জায়গা ছিলো না। তাই উপন্যাসের বড় নামটা ছোট করে দিয়েছি।

বাঙালনামা আপনার আগের বইটাও ছিলো উপন্যাস। এবারো উপন্যাস বের হয়েছে। আপনিতো কবিতাও লেখেন। কবিতার বই কেনো নয়?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● আসলে আমি কবিতার বই কখনো বের করতে চাইনা। কারণ হচ্ছে একটি উপন্যাস একটি কবিতায় ধারণ করা যায়। আপনি ৩০-৪০ টা কবিতা দিয়ে একটি কবিতার বই বের করছেন। যদি একটি কবিতা দিয়ে একটি বই বের করা যেত তাহলে মানুষ সঠিক ভাবে অনুধাবন করতে পারতো কবিতার ভাব-গাম্ভীর্য। ৪০ টি কবিতা পড়ে একজনের একটি কবিতা ভালো লাগলো। সে কিন্তু কবিতাটার ভাব- গাম্ভীর্য বুঝার চেষ্টাটা করেনা। এসব কারণেই মূলত কবিতার বই বের করার ইচ্ছে নেয়। আর আমার মধ্যেও মনে হয় এখনো কবিতা লেখার যে ভাব- গাম্ভীর্য লাগে সেইটা আসেনি।

বাঙালনামা যারা সমসাময়িক উপন্যাস লিখছেন তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কেমন?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● এখন সমসাময়িক যারা আছেন তারা অনেক ভালো লেখেন। আহমেদ ইশতিয়াক ভাই আছেন। আরিয়ান শুভ ভাইয়ের একটা নতুন উপন্যাস আসছে। এছাড়াও অনেকেই আছেন ভালো লেখে। সবার মধ্যে অদম্য স্পৃহাটা আছে।

বাঙালনামা অনলাইন কেন্দ্রিক বই এর গ্রুপ গুলো দেখা যাচ্ছে থ্রিলার সাহিত্যের খুব কদর। অনেকেই থ্রিলার সাহিত্যটাকে মূল ধারার সাহিত্যের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন। আপনি কী মনে করছেন?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● না, সাহিত্যে একটি আর একটির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়না। পরিপূরক বলা যেতে পারে। এটা ঠিক যে থ্রিলার মূল ধারার সাহিত্যের পাঠক কিছু কমিয়ে দিচ্ছে। আমি নিজেও এখন একটি থ্রিলার বই পড়ছি (হাতের বই দেখিয়ে)। থ্রিলার বই পড়তে পড়তে হঠাৎ একটি বাক বদল আসে যেইটা ইন্টারেস্টিং। তো আমরা যেইটা দেখছি যে, থ্রিলার অনলাইন বেজ পাঠকদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। অফলাইন পাঠকদের কাছে থ্রিলার খুব বেশি যায়নি। তো আমার মনে হয় একটা আর একটাকে  ধ্বংস করতে পারে না।

বাঙালনামা একটি অভিযোগ দেখা যায় যে প্রকাশকেরা লেখকদের সেই অর্থে মূল্যায়ন করেন না। এটি কীভাবে দেখেন?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● এইটা আসলে খুবই কম্পিলিকেটেড প্রশ্ন। একজন লেখকের এখন ৩০০-৩৫০ টা বই বিক্রি অনেক কিছু। এই বই বের করে একজন প্রকাশক কতই পান বা কতটুকু লাভবান হন?। আমার মনে হয়না যে লেখকরা টাকার জন্য লিখছে। সে লিখে আনন্দ পায় এজন্যই লেখে।

বাঙালনামা একধরণের অবমূল্যায়ন এর অভিযোগ আছে।

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● অবমূল্যায়ন বলতে আসলে কী বুঝাচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি না।

বাঙালনামা অনেকেই অভিযোগ করেন যে, বই যেভাবে আসার কথা ছি্লো বা যে সময়ে আসার কথা ছিলো এই ব্যাপারগুলোতে অধিকাংশ প্রকাশকেরা কথা রাখছেন না।

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● আমার নিজের উপন্যাসই মেলায় আসার কথা ছিলো দুই তারিখে। কিন্তু মেলায় এসেছে আট তারিখে। আসলে এই সময়ে প্রেস এবং প্রকাশক উভয়ই অনেক প্রেশারে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশকদেরও কিছু করার থাকে না যদি প্রেস সময়মত বই ডেলিভারি না দিতে পারে। এক্ষেত্রে আমি বলবো আমাদের সবারই একটু ধৈর্যশীল হওয়া উচিৎ।

বাঙালনামা আপনি বলতে চাচ্ছেন যে লেখক এর উপর নির্ভর করছে?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● ব্যতিক্রম ও কিন্তু আছে। একটা এক্সাম্পল দেই- একুয়া রেজিয়া আপা, আমার কাছের একজন মানুষ। তার সাথে ‘অন্যপ্রকাশ’ চুক্তি করে ফেলেছে। তো যারা ভালো লেখেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো কম। এখন যারা ভালো লিখছেন তারা এই ভাবে লিখেই বড় হয়েছেন। প্রথম বই প্রকাশ করে কেউ কোটি কোটি টাকা ইনকাম করতে পারেনা। এই সমস্যটা হয় নতুনদের ক্ষেত্রে। আর এটা হওয়া স্বাভাবিক। এই সমস্যা অভারকাম করতে পারলেই সে বড় লেখক হয়ে উঠতে পারবে।

বাঙালনামা হুমায়ূন আহমেদ-এর পরবর্তী যারা তাদের ব্যাপারে একটি অভিযোগ যে তারা হুমায়ূন আহমেদ-এর মতো লিখতে চান। এই ব্যাপারটা কীভাবে দেখেন?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● এই ব্যাপারটা হচ্ছে লেখকরা তাদের মতো করেই লেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই দোষটা আসলে পাঠকদের। দোষ ঠিক বলবোনা। কারণ হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ এর বই পড়তে পড়তে পাঠকরা এর বাইরে কিছু দেখলেও হুমায়ূন আহমেদ এর সাথে মেলানোর চেষ্টা করেন। কাজী আনোয়ান হোসেন- এর কথা ভাবেন। আগে কেউ থ্রিলার লিখলে সবাই বলতো- হ্যাঁ, কাজী আনোয়ার হোসেন এর মতো হয়েছে। তো এই ব্যাপারগুলো কিছুদিন থাকবে।

বাঙালনামা এবারের বইমেলা কেমন দেখছেন?

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● মোটামুটি ভালো। বইমেলা তো অফিসিয়ালি শুরু ১৩ তারিখ থেকে। ভালোই লাগছে।

বাঙালনামা ধন্যবাদ

ইকবাল মাহমুদ ইকু ● বাঙালনামা –কেও ধন্যবাদ।

Bangalnama/বাঙালনামা/ডব্লিউকে

Please follow and like us:
0