হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে ইনহেলারের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে

| শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত ইনহেলার ব্যবহারে অবশ্যই অ্যাজমা রোগীদের যথাযথ ব্যবহার বিধি জেনে নিতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পালমোনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ বলেন, অ্যাজমা রোগীদের চিকিৎসায় ইনহেলার একটি কার্যকর উপায়।

তিনি বলেন, হাঁপানি একটি দুরারোগ্য রোগ, এর ফলে শ্বাসকষ্ট, বুকটান ও কাশি হয়। হাঁপানির ওষুধ ইনহেলারের মাধ্যমে রোগীর শ্বাসনালীতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট কমিয়ে তার স্বস্তি দেয়। রাতে বা ভোরে ঠান্ডার কারণে কাশি হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বায়ু দূষণসহ বংশগত ও পরিবেশগত কারণগুলোও এই রোগে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

ডা. শামীম বলেন, এই রোগের জন্য জন্মগত কারণও রয়েছে এবং এই রোগের উপসর্গ অভিভাবক থেকে শিশুর মাঝে বিস্তার করে। কিন্তু শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বিশেষ করে শৈশবে ভাইরাস আক্রমণসহ এর জন্য অন্য কারণও রয়েছে, যা পরবর্তিতে হাঁপানিতে রূপ নেয়।

তিনি বলেন, নগরীর বায়ু দূষণ এর জন্য অন্যতম প্রধান কারণ। কিন্তু পশুর কাছে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার ও অন্যান্য জীবাণুও হাঁপানি রোগের অন্যতম কারণ।

ডা. শামীম বলেন, বিভিন্ন সংক্রমিত রোগ যেমন, এলার্জি রাইনাটিকস, হাঁপানি এবং এলার্জি ওঠাসহ বিভিন্ন উপসর্গ হাঁপানি বৃদ্ধির জন্য গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, হাঁপানি প্রতিরোধ গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরে বেশি। ডা. শামীম বলেন, সাধারণত এটি নিরাময়যোগ্য রোগ নয়, কিন্তু সচেতন জীবনযাপন এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম উপায়।

এখন পর্যন্ত হাঁপানির সর্বোত্তম চিকিৎসা হিসেবে ইনহেলারকেই বিবেচনা করা হয় বলে তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ হাঁপানি রোগে ভুগছে এবং বেশিরভাগ রোগীর এই রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাঁপানি রোগী যাতে না বাড়ে তাই এ ব্যাপারে তিনি ব্যাপাক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. শামীম বলেন, সরকার ও বিএসএমএমইউ হাঁপানি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান জনগণকে হাঁপানি রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এ বছরও অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও মে মাসের প্রথম মঙ্গলবার বিশ্ব হাঁপানি দিবস পালিত হয়।

Bangalnama/বাঙালনামা/বিএস/এসআর

Please follow and like us:
0