বিজয়ের মাসের প্রথম দিন

| বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১, ২০১৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ● বিজয়ের মাসের পয়লা ডিসেম্বর। একাত্তরের এই দিনে তখনো বিজয় লাভ হয়নি। বিজয়ের ঘোষণা আসেনি। কিন্তু এরই মধ্যে ঘটে গেছে শাহাদাতের নানা রকম ঘটনা। এখন আমরা সেসবই রোমন্থন করি। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ত্রিশ লাখ শহীদ এবং দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সাক্ষর বিজয়ের মাস বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক রাজনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরন হয় এ মাসে।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চুড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূ-খণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা ।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হবার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিঁধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।

বিজয়ের মাসের প্রথমদিন বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিজয়ের মাসকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ, মানববন্ধন, বিজয় র‌্যালি ইত্যাদি।

বিজয়ের মাসের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে কলাভবন প্রাঙ্গণের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি ‘বিজয় র‌্যালি’ বের করা হয়।

বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে এই বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

পরে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তির গান ও বিজয়ের গান।

র‌্যালিতে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

র‌্যালিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বক্তৃতায় পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা ও সার্ক থেকে পাকিস্তানের সদস্যপদ বাতিল ও একইসাথে জাতিসংঘ থেকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানকে বহিষ্কারের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩০ লক্ষ শহীদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মাহুতির কথা স্মরণ করে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ এ উপলক্ষে ভোরে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন ও র‌্যালির মাধ্যমে শুরু করে দিনের কর্মসূচি।

পরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চের সভাপতি ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজান্মেল হক , খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালেক মিয়া, মেজর (অব.) ওয়াকার হাসান প্রমুখ ।

মোজান্মেল হক বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। সুতরাং পহেলা ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণা এখন সময়ের দাবি। এ দাবি আদায়ে তারা সফল হবেন।

শাজাহান খান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সকল দাবির প্রতি বর্তমান সরকার সংবেদনশীল। অতি শীঘ্রই মুক্তিযোদ্ধা দিবসটি সরকারিভাবে পালিত হওয়া উচিত। তবে শত্রু পক্ষ কিন্তু বসে নেই। আমাদের সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরীর কাজটি অব্যাহত রাখতে হবে। আর এ দায়িত্ব শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রজন্ম একাত্তর বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর অডিটোরিয়ামে ৪৬তম বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করে । এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির উত্তরাধিকারীরা এখনও এদেশে অশান্তির কারণ হয়ে বিচরণ করছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার এদেশের মাটিতে হয়েছে। বাকিদেরও হবে।

মুিক্তযোদ্ধা দিবস বাস্তবায়ন পরিষদ ডিসেম্বর এর প্রথম দিনটি “ মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ হিসবে পালন করে ।এ উপলক্ষে এদিন সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিখা চিরন্তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে । এতে শপথ পাঠ করান মেজর জেনারেল (অব) শফিউল্লাহ ।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমিটি বিজয়ের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে বিজয়ের আলোর মিছিল এবং ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানায় ।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ বিজয়ের মাসকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনা সভা এবং বিজয় সমাবেশের আয়োজন করে । সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া বীর বিক্রম ।

জাতি এ বছর বিজয়ের ৪৫তম বার্ষিকী পালন করবে । এ ছাড়াও এমন একটি প্রেক্ষাপটে বিজয় দিবস ও বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হবে যখন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্বে ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

Bangalnama/বাঙালনামা/বিএস/এমকে

Please follow and like us:
0